হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ঢাকাস্থ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধির আমন্ত্রণে ‘শহীদ নেতার’ ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান সফরকারী বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, ইরান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও স্মরণানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইসলামী উম্মাহর সংহতির প্রতীক। তাঁর ভাষায়, মুসলমানরা একটি দেহের মতো। ইসলামী উম্মাহর কোনো অংশে যদি কষ্ট বা দুর্ভোগ নেমে আসে, তবে তা সমগ্র মুসলিম জাতির উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম উম্মাহ নিপীড়ন ও চাপের মুখে রয়েছে। তাঁর মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জায়নবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং আল্লাহ ইরানের জনগণকে বিজয় দান করেছেন, যা বাংলাদেশের মানুষকে আনন্দিত করেছে।
মুজিবুর রহমান ইরান-বাংলাদেশ সম্পর্ককে গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা জানাজার নামাজ ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানে এসেছেন এবং মরহুমের জন্য আল্লাহর কাছে রহমত, ক্ষমা ও জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মরহুম আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর আদর্শ ছিল ইসলামী দেশগুলোতে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করা। তাঁর মতে, তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের পথে আল্লাহর একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এমন নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, বিশ্বের যেখানেই মুসলিম উম্মাহর ওপর অবিচার হবে, সেখানেই প্রতিবাদ জানানো উচিত। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একাধিক বিবৃতি, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে ইসরায়েলের হামলা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য ও সমর্থককে নিয়ে ইরানে ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে মুসলিম ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও সংসদে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বশক্তিগুলোর চাপিয়ে দেওয়া তৃতীয় যুদ্ধ বলে উল্লেখিত সংঘাতে ইরানের বিজয়ে তিনি আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, আমরা সবসময় নিপীড়িত জনগণ, যুদ্ধাহত মানুষ এবং যারা জীবন ও সম্পদ হারিয়েছেন তাদের পাশে থাকব। আমাদের নীতি হলো-আমরা কাউকে অত্যাচার করব না এবং অত্যাচারের কাছেও নতিস্বীকার করব না।
বক্তব্যের শেষে মুজিবুর রহমান ইসলামী উম্মাহর ঐক্য জোরদার করা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মুসলিম বিশ্বের সেবায় ইরানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানবতা ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে এই কার্যক্রম আরও শক্তিশালীভাবে অব্যাহত থাকবে।
আপনার কমেন্ট